প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ১৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন
দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এবার রাজধানীর ৩৩টি স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হবে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট এলাকায়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) পলাশী মোড়ে প্রতিমা বিসর্জনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ।
তিনি জানান, বিসর্জন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্ধারিত ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ওয়াইজঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন রয়েছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে প্রতিমাগুলো নির্ধারিত স্থানে জড়ো করা হচ্ছে। প্রস্তুতি শেষে শোভাযাত্রা শুরু হবে।
নিরাপত্তায় ডিবি, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির নিয়মিত পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এসআরইউ, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যদেরও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মো. শহীদুল্লাহ বলেন, রাজধানীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বাকি সময়েও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা
প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে রাজধানীবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সবাই যেন উৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে পূজার শেষ পর্ব সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন।
বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
Comments