কম্বোডিয়ায় আটক হওয়া ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে দেশে ফেরার পথে আটক হওয়া ৩০ জন বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩২১) তাঁরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
এর আগে এই বাংলাদেশিরা কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাঁদের মুক্ত করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে 'অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন'-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত মুক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ ৩২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে দুজন পরবর্তীতে মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম বা অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। এসব জিম্মি কেন্দ্র বা স্ক্যাম সেন্টার থেকে কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে দেশটির সরকার নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধ উপায়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা নমপেন বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় অবৈধভাবে অবস্থানসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণ দেখিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের আটক করে। কূটনৈতিক তৎপরতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে তাঁরা আজ দেশে ফিরলেন।
Comments