যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: ৭ জন গ্রেপ্তার, ৫ জনই সরকারি কর্মচারী
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাঁচ কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র সরবরাহের কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, বিভিন্ন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা বললেও তদন্তকারীদের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রশ্নফাঁসের উৎস উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল ১১টার আগে, সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছিল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসাদুল ইসলামকে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের সূত্র ধরে পরদিন ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Comments