দেবীর বোধন আজ: ৬ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভসূচনা
দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পুরাণ মতে, অকালবোধনের মাধ্যমে নিদ্রিত দেবীকে জাগ্রত করার শাস্ত্রীয় আচার পালনের পর আগামীকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসব শুরু হবে। বিশেষ বিষয় হলো, এ বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় চিরাচরিত পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ধরে চলবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ।
প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা সাধারণত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত উদযাপিত হলেও এবার তিথির বিন্যাসে উৎসবের পরিধি বেড়েছে। সে অনুযায়ী: বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর): দেবীর বোধন, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর): মহাষষ্ঠীর অধিবাস, শনিবার ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর): মহাসপ্তমী (তিথি দুদিন থাকায় অধিক পূজা), সোমবার (১৯ অক্টোবর): মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর): মহানবমী, বুধবার (২১ অক্টোবর): বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সারা দেশে এবার মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। তবে ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না থাকায় গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে ২৫৮টিতে দাঁড়িয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য বেশ কিছু জরুরি দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে:
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপন করতে হবে।
- প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে।
- মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং 'স্বেচ্ছাসেবক' লেখা আর্মব্যান্ড নিশ্চিত করতে হবে।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের (মাইক/সাউন্ড সিস্টেম) ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে।
- যেকোনো ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা জরুরি সহায়তার জন্য নিচের নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলোতে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে:
- পুলিশ সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০
- ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি): ০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০
- ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭০৫৫০৫৫২৯
- ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯
Comments