স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিল হাইকোর্ট
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অবকাশকালীন ছুটি শেষে আদালত খুললে নিয়মিত বেঞ্চে রিটটির শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারীর আইনজীবী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটকারীর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার জানান, আদালত অবকাশকালীন ছুটি শেষে নিয়মিত বেঞ্চে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। আদালত খোলার পর রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
এর আগে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রিট দায়ের করে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন। গত ৭ অক্টোবর সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ আবেদনটি করেন।
রিটে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার বিধান বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী জাহিদ তালুকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল লটারি চালু করেছিল সরকার। পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আবারও ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি জানান, গত ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংবাদ সম্মেলনে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই দিন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কথা জানানো হয়।
রিটকারীদের অভিযোগ, লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করা হয়নি।
তাদের মতে, অল্প বয়সে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে শিশুদের ওপর মানসিক চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষকের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
রিটকারীদের আরও দাবি, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই শিশুদের জন্য চাপমুক্ত ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভর্তি পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আইনজীবী জাহিদ তালুকদার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে একই হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি আদালতের কার্যতালিকার ওপর নির্ভর করবে।
Comments