পরিবারতন্ত্রের অভিযোগে সংকটে মেঘনা লাইফ, পাঁচ বছরে কমেছে প্রিমিয়াম ও জীবন তহবিল
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বিরুদ্ধে পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক আধিপত্য, বীমা আইন লঙ্ঘন এবং সুশাসনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটির ব্যবসা ও জীবন তহবিলে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
কোম্পানির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রিমিয়াম আয় ছিল ৩৮৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে প্রায় ২৮২ কোটি টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে আয় কমেছে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা বা ২৭ শতাংশের বেশি। একই সময়ে জীবন তহবিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে তহবিল কমেছে প্রায় ২৯৪ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদের পরিবারের চার সদস্য পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ধারণের পরিমাণ সম্মিলিতভাবে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এ নিয়ে বিমাকারীর নিবন্ধন প্রবিধানমালা, ২০১৩-এর বিধান প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কোম্পানিটির বিমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ প্রিমিয়াম আয়ের চেয়ে বেশি ছিল। ২০২৫ সালেও প্রায় ২৮২ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে দাবি পরিশোধ হয়েছে ২৮৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বিনিয়োগ আয় কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ মনে করেন, আর্থিক খাতে পরিবারকেন্দ্রিক ব্যবসা পরিচালনা সুশাসনের ঘাটতির অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং গ্রাহকের ন্যায্য দাবি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা জরুরি।
সূত্র: বাণিজ্য প্রতিদিন
Comments