মালদ্বীপে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন প্রস্তাব
মালদ্বীপে ডলার সংকটের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর জটিলতা কমাতে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপের মুদ্রা রুফিয়ার ব্যবহার, ভ্রমণসংক্রান্ত লেনদেন এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করা।
আজ (১২ অক্টোবর) মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম Sun.MV-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। চিঠিতে তিনি জানান, বৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের চ্যানেল শক্তিশালী করার উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে নানা সমস্যায় পড়ছেন।
প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় রুফিয়ায় লেনদেনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুবিধাভোগীদের টাকায় অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দিষ্ট ব্যয় রুফিয়ায় পরিশোধ এবং বাংলাদেশে টাকায় দাম নির্ধারিত কার্ড ইস্যুর সুযোগ তৈরির কথা রয়েছে। তৃতীয় প্রস্তাবে প্রবাসীদের আয় দেশে পাঠানো সহজ করতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় বা কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল নিয়ে এমএমএর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মালদ্বীপে প্রায় দুই লাখ বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক লাখ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
Comments