পুজোর ভূরিভোজে বদহজম এড়াতে যা করবেন
পুজো মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। পোলাও, মাটন, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নানা রকম মুখরোচক পদ—উৎসবের দিনে পাতে একটু বেশি খাবার উঠবেই। কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়ার পর পেট ভার, গ্যাস, অম্বল কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিলে আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। তাই পুজোর ভূরিভোজ উপভোগ করতে খাবারের পাশাপাশি কয়েকটি অভ্যাসের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
ভারী খাবার খেলে পেট ফাঁপে কেন?
একসঙ্গে অনেকটা খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত পদ কিংবা কার্বোনেটেড পানীয় পান করার কারণে পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে। বেশি চর্বিযুক্ত খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। অন্যদিকে, কার্বোনেটেড পানীয়ের সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত গ্যাস প্রবেশ করতে পারে। ফলে পেট ভার লাগা, ঢেকুর, পেট ফাঁপা ও অম্বলের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুজোর সময়ে পছন্দের খাবার এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে খাওয়ার পর অস্বস্তি কমাতে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলতে পারেন।
১. খাবারের সঙ্গে কোল্ড ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলুন
বিরিয়ানি বা মাংসের পদের সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু কার্বোনেটেড পানীয় পেটে গ্যাস ও ফাঁপার অনুভূতি বাড়াতে পারে। তাই ভারী খাবারের সঙ্গে কোল্ড ড্রিঙ্কস না খাওয়াই ভালো। এর পরিবর্তে সাধারণ জল পান করুন। তৃষ্ণা অনুযায়ী জল পান করুন, তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত জল খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
২. খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটুন
ভূরিভোজের পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে তা বদলান। খাওয়ার পরে ১০–১৫ মিনিট ধীরে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা মিলতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের অম্বল হয়, তাঁদের খাবারের পরপর শুয়ে না পড়া উপকারী।
৩. একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না
পুজোর আনন্দে পছন্দের সব পদ একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে খাবার নিন এবং ধীরে ধীরে খান। পেট ভরে গেলে জোর করে আর খাবেন না। প্রয়োজনে বিরতি নিয়ে পরে আবার খেতে পারেন।
৪. রাতের খাবার ও ঘুমের সময়ের মধ্যে ব্যবধান রাখুন
ভারী রাতের খাবার খেয়েই বিছানায় চলে যাবেন না। এতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত অম্বল হয়, তাঁদের ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা উচিত। রাতের খাবার খুব ভারী না রাখলেও স্বস্তি পেতে পারেন।
পুজোয় সুস্থ থাকতে নজর দিন অভ্যাসে
উৎসবের দিনে খাওয়াদাওয়ার আনন্দ উপভোগ করুন, তবে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন। ধীরে খাওয়া, কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা, খাবারের পর হালকা হাঁটা এবং খেয়েই শুয়ে না পড়ার মতো অভ্যাস পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বারবার গ্যাস-অম্বল হলে কিংবা তীব্র পেটব্যথা, বমি বা অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Comments