ফিরে দেখা ডাক বিভাগের অতীত ও বর্তমান
আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—'এক ডাক নেটওয়ার্ক, অসীম সম্ভাবনা'। এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব সেবা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী 'ডাকসেবা সপ্তাহ' পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এসময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি লেখার উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী এবং ডাকসেবা বিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা ডাকসেবার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক ডাক যোগাযোগ সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইউপিইউর কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে 'বিশ্ব ডাক দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদ্যাপন হয়ে আসছে।
ডাকব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ডিজিটাল যুগের আগে প্রিয়জনের খবর আদান-প্রদান, দাপ্তরিক যোগাযোগ কিংবা দূরে থাকা মানুষের কাছে অর্থ বা জরুরি বার্তা পাঠানোর একমাত্র ভরসা ছিল এই ডাক বিভাগ। প্রযুক্তির প্রবল প্রসারে চিঠি আদান-প্রদানের প্রচলিত সেই রূপ বদলালেও, পার্সেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং দেশের সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক নেটওয়ার্কের অপরিহার্যতা আজও ফুরিয়ে যায়নি।
ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে এবং সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রচলিত সেবার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডাক ও লজিস্টিকস সেবা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
ই-কমার্স ও পার্সেল সেবা: ই-কমার্স খাতের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পার্সেল ট্র্যাকিং (অনুসরণ), গ্রাহকের বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় তা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার আধুনিক ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি: পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য ফুলফিলমেন্ট সেন্টার তৈরি, কৃষিপণ্য ও মৌসুমি ফল সহজে পরিবহনের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাভিত্তিক 'ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেবার পরিধি বিস্তার: এসব আধুনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ডাকসেবার পরিধি বহুগুণ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানো আরও সহজ ও গতিশীল হবে।
যুগের পরিবর্তনে ডাক বিভাগের কাজে এসেছে বহুমুখী পরিবর্তন। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আরও গতিশীল, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য করে তোলার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। বিশ্ব ডাক দিবসের মূল লক্ষ্যও হলো দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসেবার গৌরবোজ্জ্বল অবদানকে স্মরণ করা এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী এক আধুনিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে গড়ে তোলা।
Comments