১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১,৮৩৭ টাকা
অক্টোবর মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই দর আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তি মূল্য (সিপি) যথাক্রমে প্রতি টন ৬৮০ ও ৭৩০ ডলার (গড় ৭১২.৫০ ডলার) বিবেচনা করে অক্টোবরের দাম হিসাব করা হয়েছে। এ সময় শিপিং ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বাবদ প্রতি টনে ২৫০ ডলার এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে গড় বিনিময় হার ১২৩.১৮ টাকা ধরা হয়েছে।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪.৬২ টাকা। ভ্যাটসহ ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজি ১৪৯.৩১ টাকা এবং প্রতি ঘনমিটার ৩৩১.৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে সরকারি মালিকানাধীন ১২.৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬.৯৩ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার বাস্তবতা ও বাড়তি দামের বিতর্ক
নির্ধারিত দাম বাড়ার ফলে বাজার নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ল। কারণ, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে সবসময়ই বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দাম নির্ধারিত থাকলেও ভোক্তাদের ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০৮ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে।
এদিকে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই এবং আগস্টে ১৫৮ হাজার টন ও সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। সংগঠনটি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রির নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কিছু এলাকায় সংকট ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
Comments