৫০৬ কোটির ‘ভুতুড়ে’ বিল: মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের চারজন বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহককে ৫০৬ কোটি টাকারও বেশি 'ভুতুড়ে' বিল পাঠানোর ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকসহ (জিএম) চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন—
-
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম (যাঁকে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে)।
-
শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়।
-
বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ।
-
মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী।
মহিতুল ইসলামকে বরখাস্তের পর মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জিএমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বরখাস্ত হওয়া বাকি তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া খাতুনের নামে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অবিশ্বাস্য বিল ইস্যু করেছিল পল্লী বিদ্যুতের আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভুল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার নতুন বিল দেওয়া হলে গ্রাহক তা পরিশোধ করেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটি জানাজানির পর মন্ত্রী তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বর ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসে যাওয়ার কারণেই এই অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই জড়িতদের বিরুদ্ধে এই কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে সরাসরি ফোন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফোনালাপে মন্ত্রী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গ্রাহকের মানসিক উদ্বেগ ও ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ জানান।
মন্ত্রী এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Comments