রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব স্থগিত, ৭৯ জনকে সতর্ক
র্যাগিং, শারীরিক হামলা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ জন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাঁরা আর কখনোই হলে ওঠার সুযোগ পাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এই কঠোর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া একই অভিযোগে আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট ও প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে নানা মেয়াদে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং চারুকলা অনুষদের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ১ জনসহ মোট ১৯ জনের ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ জন শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আরও বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬ এর সুপারিশ অনুযায়ী শাস্তি পাওয়া ৯৮ শিক্ষার্থী যেসব বিভাগের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ (৩১ জন), ইতিহাস বিভাগ (১৮ জন), লোকপ্রশাসন বিভাগ (১৫ জন), ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ (১৩ জন), অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগ (৭ জন), চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগ (৪ জন), শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ (৪ জন), চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ (৪ জন), অর্থনীতি বিভাগ (২ জন) এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ (১ জন)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, "শৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসকে র্যাগিং ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।"
Comments