প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের পর বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ: মাহ্দী আমিন
ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের 'করবী' হলে সরকারের এক মাসের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, গ্যাস সংকট কাটিয়ে শিল্পকারখানাগুলোকে সচল করা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাই প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ ২১ জন নেতা এবং গণমাধ্যমের একাংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে গ্যাস সংকট দ্রুত কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে। সামনের দিনগুলোতেও সরবরাহের এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, এ সময় নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের অর্জন নয়; বরং সমৃদ্ধ ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
তিনি বলেন, প্রচলিত শাসনব্যবস্থার জটিলতা কমিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম কম বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কক্সবাজারে 'ব্লু ইকোনমি' নিয়ে গবেষণার জন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাদবাগান কর্মসূচি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কক্সবাজারে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। পাশাপাশি কওমি ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে দুপুরের খাবার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি প্রাণিচিকিৎসক নিয়োগ এবং কাওরান বাজারের পাইকারি হাট গাবতলীতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Comments