সময়মতো অফিসে না আসায় নারায়ণগঞ্জের দুই এসিল্যান্ড বদলি
কার্যালয়ে যথাসময়ে উপস্থিত না থাকা এবং আগাম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর মন্ত্রণালয় থেকে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকিয়া সারওয়ার লিমা এই বদলির আদেশ নিশ্চিত করেছেন। বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন—সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা। এর মধ্যে দেবযানী করকে খুলনায় এবং অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় পরিদর্শনে যান। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয় এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় একই চত্বরে পাশাপাশি অবস্থিত। প্রতিমন্ত্রী সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে প্রবেশ করলেও তখন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না।
পরে হাজিরা খাতা পরিদর্শন করে দেখা যায়, অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আগেই খাতায় স্বাক্ষর করে রেখেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
ঘটনার পর দুই সহকারী কমিশনারসহ মোট ২০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় প্রশাসন। নোটিশে বলা হয়, আগাম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। এছাড়া বিনাকারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা দেরিতে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে তারা লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন।
বদলিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মানতে নারাজ সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ও অবগত ছিলেন। এটি কোনো শাস্তিমূলক বদলি নয় বলে জানান তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, একই কার্যালয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comments