অদৃশ্য ইশারায় বঙ্গোপসাগরে গ্যাস তোলার চেষ্টা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সংকটকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না বর্তমান সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং বিভিন্ন জাতীয় সংকট মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ডানে ও বাঁয়ে থাকা প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস আহরণ করলেও অদৃশ্য কোনো ইশারায় দেশের সীমানায় বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা না করে দেশকে সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটের বর্তমান কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস ছিল মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই সেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তেল ও গ্যাস আমদানিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এর ওপর দেশের দুটি এফএসআরইউর (ভাসমান টার্মিনাল) একটিতে দুর্ঘটনা ঘটায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তবে বিএনপি অতীতেও প্রতিটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারও এই সংকট কাটিয়ে উঠবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, তথাকথিত বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে তারা কুইক রেন্টাল বসিয়েছিল। এই কুইক রেন্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রকে ফতুর ও ঋণগ্রস্ত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা জ্বালানি খাতের কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।
ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক খাতের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেসময় খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ মাত্র ১১ শতাংশ দেখানো হলেও বর্তমান সরকারের ফরেনসিক অডিটে তা বেরিয়ে আসে ৩৫.৫ শতাংশ। তবে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে গত পাঁচ মাসে তা কমিয়ে ৩২.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ সত্ত্বেও দেশি অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে বিরোধী দলের গাড়ির লংমার্চের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে লংমার্চের মাধ্যমে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করা হয়েছিল। গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যেত, তবে সরকার নিজেই সবার আগে তার আয়োজন করত।
দেশে বর্তমানে বাকস্বাধীনতা অবারিত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পারিবারিক পরিবেশে যে শব্দগুলো ব্যবহার করা যায় না, জনপ্রতিনিধি হয়ে জনপরিসরে সেই শব্দগুলোর ব্যবহার শোভন নয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন কোনোভাবেই গালাগালিতে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য যেন পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্জীবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে মিলে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রপতির সমাপনী বাণী পাঠের মাধ্যমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Comments