ভবিষ্যতে গ্যাস সংকট মোকাবেলায় বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংকটের সময়ে শিল্প খাত যেন গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গভীর সমুদ্রে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটকালে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই ক্ষেত্রে ইপিজেড ও বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সুফল এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার ব্যবহারে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসকল গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে মূল্য পাবেন।
সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা, দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি এবং তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলের মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে কম খরচে জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সেবা পায়, সরকার তা নিশ্চিত করছে। গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
Comments