‘ওরা বাবাকে মেরে ফেলতে চাইছে’—ইমরান খানের ছেলের শঙ্কা
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার বড় ছেলে কাসিম খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তার বাবাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে কাসিম বলেন, 'ওরা স্পষ্টতই বাবাকে কারাগারে মেরে ফেলতে চাইছে। যতটা সম্ভব গোপনে তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া এবং ধীরে ধীরে তাকে অস্তিত্বহীন করে তোলাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।' পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তাকে থামাতেই এই অপকৌশল নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইমরান খানের পরিবার অভিযোগ করেছে, কারাগারে একাকী বন্দিত্ব, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার অভাব এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করায় তার সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার সুচিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে একধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর আগে ইমরানের আরেক ছেলেও বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান সরকার। কারাবন্দি জীবন নিয়ে কাসিম খানের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য দেশটির রাজনীতি ও ক্রিকেট—উভয় অঙ্গনেই নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
উল্লেখ্য, ইমরান খানের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০১৮ সালের আগস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তবে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
Comments