নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, উদ্ধার অভিযান বন্ধ
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান শেষ করেছে উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নতুন করে কোনো শ্রমিকের সন্ধান না পাওয়ায় সেখানে আর কেউ জীবিত বা মৃত অবস্থায় আটকে নেই বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা।
শুক্রবার দীর্ঘ নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে আরও একজন শ্রমিকের মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর সুড়ঙ্গের বাকি অংশে তল্লাশি চালানো হলেও আর কোনো ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ) কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য অম্বর মহাত বলেন, সুড়ঙ্গের বেশিরভাগ অংশ কাদা, মাটি ও পাথরের স্তূপে ঢেকে গেছে। কয়েকটি স্থানে ওপরের কংক্রিটের স্ল্যাবও ভেঙে পড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা হামাগুড়ি দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালান। তবে সেখানে আর কোনো মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজনকে। নয় দিন ধরে আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে চিকিৎসার জন্য দুজনকেই কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার হয় আরেক শ্রমিকের মরদেহ।
উদ্ধার অভিযান চলাকালে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল। এতে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুড়ঙ্গের একেবারে শেষ অংশ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও আর কাউকে না পাওয়ায় সেই সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।
অভিযানে থাকা ভূতাত্ত্বিক প্রকৌশলী উদয় নেউপানে জানান, বন্যার দুই দিন পর থেকেই সুড়ঙ্গের ভেতরে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছিল। ভূগর্ভস্থ অংশে থাকা কিছু ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার কারণেই সঞ্জয় ও কবির এতদিন টিকে থাকতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান আঘাত হানে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন।
নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার ভোর পর্যন্ত হড়পা বানে দেশটিতে ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের প্রধান অভাস ওঝা জানান, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানোর পরও আর কাউকে খুঁজে পাননি। এ কারণে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Comments