ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, আজ থেকে হিলিতে বাণিজ্য শুরু
অবশেষে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ৬দিন বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে হিলি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আবারও দুই দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠকে ফলপ্রসু আলোচনা হলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের হিলি এক্সপোর্টার এন্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজেশ কুমার আগরওয়ালা পাপ্পু স্বাক্ষরিত একপত্রে এই সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার এন্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল জানান, হিলি বন্দরে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবীতে ডাকা লাগাতার ধর্মঘটের খবর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি গত বুধবার বালুঘাট সফরে আসলে হিলি স্থলবন্দরকে আধুনিকায়ণ করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহজীকরণে কিকি বাধা রয়েছে তা পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
বিকাশ মন্ডল আরও জানান, এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুরঘাটে প্রশাসনিক ভবনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের কয়েকদফা বৈঠক হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানিতে বাধাগুলি নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনা করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসন সমস্যাগুলি সমাধানে আশ^স্ত করলে পণ্য রপ্তানি বন্ধে ডাকা অনির্দিকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ৬দিন বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য শুরু হচ্ছে।
এব্যাপারে বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রæপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক জানান, ভারতের হিলি এক্সপোর্টার এন্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজেশ কুমার আগরওয়ালা পাপ্পু স্বাক্ষরিত একটি পত্র গতকাল শুক্রবার বিকালে আমরা পেয়েছি। সেখানে তারা বলেছেন হিলি স্থলবন্দরে জটিলতার কারণে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ও ভারতে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সাথে সমাধান হওয়ায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যথারীতি পুনরায় চালু হবে।
এদিকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার এন্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের একাধিক নেতা জানান, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সাথে হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় বহু অংশে পিছিয়ে পড়েছে। শত শত ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কিন্তু ঐসব স্থলবন্দরগুলি দিয়ে দিব্বি ব্যবসা হচ্ছে। সেখানে কোন প্রশাসনিক ঝামেলা বা প্রতিবন্ধকতা নেই। শুধমাত্র হিলি বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যতসব প্রশাসনিক নিয়মকানুন ও অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সমাধানের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সমাধানে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই ব্যবসায়ীরা এসব বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং বাণ্যিজিক স্বার্থে বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়।
Comments