হিমবাহ ধস-বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, ২০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ
নেপালের হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। দুর্যোগে বিধ্বস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন এলাকায় পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৭ হাজার ৫০০ বাড়িঘর পুরোপুরি ধসে পড়েছে কিংবা কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়েছে। একই সঙ্গে অনেক অক্ষত বাড়িও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীন সীমান্তবর্তী বেশ কিছু জনপদ পলি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো এলাকায় নতুন করে বসতি গড়ে তোলার সুযোগ নেই। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ নতুন এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। 'আপার ত্রিশূলী-১' প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর, শাব্দিক তরঙ্গ শনাক্তকারী যন্ত্র এবং তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবহার করছে। সেখানে নিখোঁজ নয়জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকসহ অন্যান্য শ্রমিকদের সন্ধান চলছে।
দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে শিশুদের শিক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ ভবনে ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষকরা।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সংকটে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে নেপাল সরকার। ভূমিকম্প শনাক্তকারী সেন্সর, ক্যামেরা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে আন্তর্জাতিক মানের একটি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
Comments