‘দ্বিতীয় জন্ম’ নিয়ে দেশে ফিরলেন নেপালের ২১ তীর্থযাত্রী
নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মধ্যে পড়েছিলেন ভারতের তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রী। প্রাণঘাতী সেই পরিস্থিতি থেকে বেঁচে শুক্রবার দেশে ফিরেছেন তারা। স্বজনদের কাছে ফিরে আসার এই মুহূর্তকে অনেকেই 'দ্বিতীয় জন্ম' হিসেবে দেখছেন।
তিনটি বাসে করে নেপালে গিয়েছিলেন ওই তীর্থযাত্রীরা। হঠাৎ হিমবাহ ধসের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে এলে মুহূর্তেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে তাঁদের বহরের দুটি বাস ভেসে যায়। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন বাসের ছাদে এবং অন্যরা আশপাশের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন।
শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তীর্থযাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট ছিল।
তীর্থযাত্রী বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, হঠাৎ পানির স্রোত নেমে আসার সময় প্রচণ্ড শব্দ হয়েছিল। সামনে-পেছনের গাড়ির কারণে বাসটি আটকে গেলে তারা সেগুলোর ওপর উঠে নিজেদের রক্ষা করেন। পরে একটি পাহাড়ে উঠে যান এবং সেখানে থাকা সশস্ত্র পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়।
তিনি বলেন, দেশে ফিরতে পারবেন—এমন আশা খুব একটা ছিল না। ওই সময় শুধু মেয়ের কথাই মনে পড়ছিল।
আরেক তীর্থযাত্রী কিরুবাথিরি বলেন, ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে নতুন জীবনের মতো। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর কোনো দূরের বিষয় নয়। এর ক্ষতির সবচেয়ে বড় বোঝা অনেক সময় দরিদ্র মানুষকেই বহন করতে হয়।
প্রবীণ তীর্থযাত্রী ভল্লিনায়াকির কাছে ঘটনাটি ছিল প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তির এক নজির। তিনি এটিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে স্বজনদের অপেক্ষার দৃশ্য ছিল আবেগঘন। দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার পর প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পেয়ে অনেক পরিবারের সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক পানির স্রোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে, নেপাল ও তিব্বতে এ ঘটনায় মোট ৬২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬১৬ জন এবং তিব্বতে সাতজন নিহত হয়েছেন। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো ২ হাজার ৪৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
Comments