নেপালে বাড়ছে লাশের সারি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২
নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দুর্যোগে ৩৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথরের স্রোত। প্রবল গতির এই ঢল যে পথ দিয়ে গেছে, সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা পানির তোড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলা থেকে ৩৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশ ২৮৯টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২-এ দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদেরও নিরাপদ এলাকায় নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার সকালে রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক ঢল নামার পর ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। একই সময়ে ভোটেকোশি নদীর পানিও বিপৎসীমার দিকে এগিয়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদামাটি ও পাথর যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
প্রবল স্রোতে সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
Comments