ভূমিকম্প নয়, নেপালের ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে যা জানা গেল
হিমালয়ের কোলে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। বুধবার সকালে চীন সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় হঠাৎ নেমে আসে প্রবল পানির স্রোত। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউয়ের মতো স্রোত মুহূর্তের মধ্যেই বাজার এলাকা ও আশপাশের স্থাপনা তছনছ করে দেয়।
বন্যার স্রোতে রাসুওয়াগাধি কাস্টমস পয়েন্টে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক ট্রাক ও পণ্যবাহী যান ভেসে যায়। নদীর তীরবর্তী বসতি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রথম দিকে ভূমিকম্পের কারণে এই দুর্যোগ হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, সেখানে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। প্রাথমিকভাবে যে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছিল, পরবর্তী বিশ্লেষণে সেটিকে বরফ-পাথরের বিশাল ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের সঙ্গে সম্পর্কিত কম্পন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর উজানে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। পরে সেই বাধা ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ ভাটির দিকে নেমে আসে। এর ফলেই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।
নিহত শতাধিক, নিখোঁজ বহু মানুষ
দুর্যোগে নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যায় বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক রয়েছেন। যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের তালিকা তৈরিতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল দুর্গত এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
নেপালের পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গিরং এলাকায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। সেখানেও পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোতে বাড়িঘর, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ কয়েকটি এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, কাদা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আরও কোনো আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
Comments