গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স নিয়ে 'মনগড়া' সংবাদ কেন?
দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি বীমা দাবি নিষ্পত্তি, গ্রাহকসেবা, করপোরেট গভর্ন্যান্স, আর্থিক স্বচ্ছতা ও কমপ্লায়েন্সকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে বলে দাবি কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের।
তবে সম্প্রতি নামসর্বস্ব কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অর্থ তহবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য ও হিসাবের অঙ্ক বিশ্লেষণের দাবি করা হলেও, সংশ্লিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ বা তহবিল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেন, অর্থের গতিপথ বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রীন ডেল্টার সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন প্রকৃতির আর্থিক হিসাবকে একত্র করে বড় অঙ্কের একটি অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে হিসাবগত পার্থক্য, দায়, সম্পদ, অগ্রিম, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও ঋণের মতো পৃথক বিষয়কে একই অর্থনৈতিক অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে বড় প্রশ্ন
প্রতিবেদনে ৩৬৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ইক্যুইটি ঘাটতি, ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা 'অন্যান্য খাতে অগ্রিম', ২৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং ১৭১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়সহ বিভিন্ন অঙ্ক তুলে ধরা হয়েছে।
কিন্তু আর্থিক হিসাবের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব অঙ্ক একই ধরনের বিষয় নয়।
ব্যাংক ঋণ একটি দায়; ইক্যুইটি ঘাটতি একটি হিসাবগত অবস্থান; সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন একটি পৃথক হিসাবনিকাশের বিষয়; ব্যবস্থাপনা ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের অংশ; আর 'অগ্রিম' একটি সম্পদ বা পাওনা-সংক্রান্ত হিসাব হতে পারে।
তাই এসব অঙ্ক সরাসরি যোগ করে 'কোম্পানির তহবিল থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে'—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে প্রতিটি অঙ্কের উৎস, প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং অর্থের গতিপথ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইক্যুইটি ঘাটতি কি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ?
প্রতিবেদনে ৩৬৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ইক্যুইটি ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি ঘাটতি থাকা এবং প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ আত্মসাৎ হওয়া—দুটি বিষয়কে সরাসরি সমার্থক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইক্যুইটির অবস্থান নির্ধারণে (Statutory Reserve, retained earnings, asset valuation, liabilities) এবং অন্যান্য হিসাবগত বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ইক্যুইটি ঘাটতির কারণ নির্ণয় করতে হলে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের ভিত্তি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোন অর্থ, কোন তারিখে, কোন হিসাব থেকে, কার কাছে বা কোন প্রতিষ্ঠানে এবং কী উদ্দেশ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে—এসবের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি।
২৬৩ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ: ঋণ নিলেই কি অর্থ সরানো হয়?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণের বিষয়টিকে সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু একটি বীমা কোম্পানির ব্যাংক ঋণ থাকা নিজেই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। দাবি পরিশোধ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানও ব্যাংক ঋণ নিতে পারে।
তাই ঋণ নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে ঋণের উদ্দেশ্য, ব্যবহার, অনুমোদন, পরিশোধের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
'অন্যান্য খাতে অগ্রিম' ২২৫ কোটি টাকা—নথি কোথায়?
প্রতিবেদনে ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা 'অন্যান্য খাতে অগ্রিম' হিসেবে দেখানোর কথা বলা হয়েছে। গ্রীন ডেল্টার সংশ্লিষ্টরা এ দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন।
এখানে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই অগ্রিম কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে, কোন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে এবং কোন হিসাবের বিপরীতে দেওয়া হয়েছিল? পরবর্তীতে তা সমন্বয় বা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাইযোগ্য বিষয়।
অগ্রিমের হিসাব স্বচ্ছ নয়—এমন অভিযোগের তদন্ত হতে পারে। কিন্তু অগ্রিম হিসেবে হিসাবভুক্ত কোনো অর্থকে সরাসরি 'আত্মসাৎ' হিসেবে আখ্যায়িত করার আগে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথি ও অর্থের গতিপথ দেখানো জরুরি।
ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের হিসাবেও অসঙ্গতির অভিযোগ
প্রতিবেদনে ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৭১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আরও ৩৯৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।
তবে গ্রীন ডেল্টার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এখানে প্রযোজ্য বিধিমালা ও সময়ভিত্তিক পরিবর্তন যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট সময়ে কোন বিধিমালা কার্যকর ছিল, বিধিমালার সংশোধন কখন হয়েছে এবং সংশোধনের পর কোন ব্যয়সীমা প্রযোজ্য ছিল—এসব বিষয় স্পষ্ট না করে পুরো সময়ের ব্যয়কে একটি নির্দিষ্ট পুরনো সীমার সঙ্গে তুলনা করা হলে সেই হিসাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।
ব্যাংক হিসাবের অমিল মানেই কি আত্মসাৎ?
প্রতিবেদনে কিছু ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স এবং আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত অঙ্কের মধ্যে পার্থক্যের কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও হিসাববইয়ের অঙ্কের মধ্যে পার্থক্য থাকলেই সেটিকে আত্মসাতের প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
এ ধরনের ক্ষেত্রে Bank Reconciliation Statement, হিসাবের cut-off date, outstanding cheque, deposit in transit, ব্যাংকে প্রতিফলিত হতে সময় নেওয়া লেনদেন এবং পরবর্তী সময়ে করা সমন্বয়সহ সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অর্থাৎ, একটি অমিল পাওয়া গেলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—'অমিলটির কারণ কী?'; সরাসরি 'অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে'—এমন সিদ্ধান্ত নয় বরং অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলাটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই প্রতীয়মান হয়
সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন ও ডিভিডেন্ড নিয়েও বিভ্রান্তি?
প্রতিবেদনে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ১৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রিজার্ভ দেখানো এবং পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে ডিভিডেন্ড দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন হিসাবমান, আইন বা বিধির কোন নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট হিসাব বা ডিভিডেন্ড অবৈধ বলে দাবি করা হচ্ছে?
Revaluation reserve, retained earnings এবং distributable profit—হিসাববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এক বিষয় নয়। তাই শুধু একটি অঙ্ককে অন্য একটি অঙ্কের সঙ্গে তুলনা করে ডিভিডেন্ড প্রদানের বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানুর কোনো সুজুগ নেই। এখানে আইনের বাইরে যেয়ে কোনো কাজ করা হয়নাই তা বুজার জন্য হিসাব বিজ্ঞান এর উপর যথাযত জ্ঞান থাকা জরুরি।
বিশেষ নিরীক্ষা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো অনুত্তরিত
প্রতিবেদনে গ্রীন ডেল্টার বিশেষ নিরীক্ষা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। কোথাও নিরীক্ষা স্থগিত হওয়ার কথা, কোথাও পরবর্তী নিরীক্ষা এবং কোথাও নিরীক্ষকদের তথ্য না দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু কোনো নিরীক্ষা অসম্পূর্ণ হলে কোন বিষয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কোন তথ্য অনুপস্থিত ছিল এবং পরবর্তীতে সেই তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল কি না—এসব তথ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষককে তথ্য দেয়নি—এমন অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকের লিখিত পর্যবেক্ষণ, তথ্য চাওয়ার নথি এবং কোম্পানির জবাব প্রকাশ করা হলে পাঠকের সামনে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতো। এমনটা না করে কোনো কোম্পানীর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা সাংবাদিকতার এথিক্স এর পরিপন্থী বলে আমরা মনে করছি।
গ্রীন ডেল্টার বক্তব্য: অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিন
গ্রীন ডেল্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি একপেশে, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ভিন্ন প্রকৃতির আর্থিক হিসাবকে একই কাঠামোয় এনে একটি বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ধারণা তৈরি করা হয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন থাকলে তা নিরীক্ষা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো হিসাবগত পার্থক্যকে সরাসরি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে সংশ্লিষ্ট অর্থের প্রকৃত গতিপথ এবং নির্দিষ্ট লেনদেনের প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ এমন বানোয়াট খবরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করছে।
প্রশ্ন এখন সাংবাদিকতার পদ্ধতি নিয়েও
গ্রীন ডেল্টার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ সত্য হলে তা অবশ্যই অনুসন্ধান ও যাচাই হওয়া উচিত। একইভাবে অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হলে বা হিসাবের ভিন্ন প্রকৃতির অঙ্ককে একত্র করে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন করা হয়ে থাকলে সেটিও প্রকাশ্যে আসা জরুরি।
কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এমন অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, অর্থের গতিপথ অনুসরণ এবং অভিযোগের প্রতিটি অঙ্কের স্বতন্ত্র উৎস নির্ণয় সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
বিশেষ করে একই অর্থ একাধিকবার গণনায় এসেছে কি না, ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট অঙ্কগুলো আসলে কী ধরনের হিসাব এবং অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া একটি বড় অঙ্কের 'অর্থ সরিয়ে নেওয়ার' অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
দীর্ঘদিনের সুনাম কি যাচাইহীন অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হবে?
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বীমা খাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রীন ডেল্টার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের দাবি নিষ্পত্তি, সেবার মান, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তাদের বক্তব্য, অভিযোগ থাকলে তারা যথাযথ তদন্ত ও যাচাইকে স্বাগত জানায়। কিন্তু যাচাইহীন, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, গ্রাহক ও পুরো বীমা খাতের জন্যও নেতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে।
তাই এখন মূল প্রশ্ন—প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি অঙ্কের পেছনে কি স্বতন্ত্র ও যাচাইযোগ্য নথি রয়েছে? অর্থের প্রকৃত গতিপথ কি শনাক্ত করা হয়েছে? একই অর্থ একাধিকবার হিসাব করা হয়েছে কি না, তা কি যাচাই করা হয়েছে? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—'হিসাবগত প্রশ্ন' ও 'অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ'-এর মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যটি কি প্রতিবেদনে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে?
এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তরই নির্ধারণ করবে—এটি প্রকৃত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, নাকি অসম্পূর্ণ তথ্য ও মনগড়া হিসাবের ওপর দাঁড়ানো একটি বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টা।
Comments