১৩ বছর পর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আযাদের আপিল, শুনানি ৩১ আগস্ট
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের শুনানি পিছিয়ে ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ শুনানি মুলতবি করে নতুন এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আপিলটি শুনানির জন্য ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। সোমবার শুনানি না হওয়ায় তা আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়।
আপিলকারী পক্ষের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের প্রায় ১৩ বছর পর গত ৬ জুলাই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। একই সঙ্গে আপিল করতে বিলম্বের জন্য ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনা চাওয়া হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
আযাদের করা আপিলটি প্রথমে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। পরে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। আদালতে তার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, আপিলকারী পক্ষ মামলার পেপারবুকের কপি না দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানি পিছিয়ে দেন।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগেই তার দেশে ফেরার খবর প্রকাশিত হয়।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। ওই দিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি যে অবস্থায় আছেন, সে অবস্থাতেই থাকবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ায় কারাদণ্ডের সাজা আলাদাভাবে কার্যকর করার প্রয়োজন হয়নি।
Comments