ভেনেজুয়েলায় মুক্তি পেলেন শতাধিক রাজনৈতিক বন্দি
ভেনেজুয়েলায় জাতীয় পুনর্মিলন ও রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে বিবেচিত ১৩১ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, 'শান্তি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান কর্মসূচি'র আওতায় এসব ব্যক্তিকে কারাগারে রাখার পরিবর্তে বিকল্প আইনি ব্যবস্থার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে মুক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন ভেন্তে ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, তারা নিজেদের উদ্যোগে ৪৩ জনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বন্দিদের বিষয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, অন্তত ৪০ জনকে কারাগার থেকে ছাড়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলায় ১৩০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ দেশটির জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও জানান, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও আটক হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলায় মোট ১ হাজার ৪৬ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মাদুরোর পর বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার সাবেক ডেপুটি প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রেরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া বন্দিদের রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত গুয়াতিরের এল রোদেও-১ কারাগারের সামনে স্বজনদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে মিলিত হতে দেখা যায়।
ফোরো পেনালের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদুরোকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
মানবাধিকার সংগঠনটির হিসাবে, ১০ আগস্ট পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কারাগারে ৩৯১ জন রাজনৈতিক বন্দি আটক ছিলেন। নতুন করে ১৩১ জনের মুক্তির ঘটনায় সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
Comments