মালদ্বীপে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ
মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বুধবার (১২ আগষ্ট) বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মালদ্বীপের পর্যটননির্ভর অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুমায়ূন কবির।
বর্তমানে মালদ্বীপে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন। দেশটির প্রচলিত কর্মসংস্থান আইনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দেশ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নেওয়ার সীমা রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হওয়ায় মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তবে বাংলাদেশ সরকার এই কোটা বাড়িয়ে মালদ্বীপে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এর মধ্যে পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালদ্বীপের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ।
মালদ্বীপে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বড় অংশ। দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়টিও দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তুলে ধরেছেন।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে কর্মী নিয়োগ ও শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি সই হয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্য হচ্ছে, বিদ্যমান নিয়ম ও আইন অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
এছাড়া দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। মালদ্বীপের নির্মাণ ও সাধারণ সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
একই সঙ্গে দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের সমস্যা সমাধানে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব বিষয়ে দুই দেশের সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠকের পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Comments