সাভার ও আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৭টি বোমা উদ্ধার, এলাকজুড়ে তীব্র আতঙ্ক
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক কয়েকটি স্থান থেকে ১৭টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং উদ্ধারকৃত বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার একটি মাদ্রাসার পাশের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাতের অন্ধকারে একটি ব্যাটারিচালিত বাইকে করে তিনজন ব্যক্তি একটি ড্রাম ফেলে যায়, যার ভেতর কোরআন শরিফ, তার, জামাকাপড় ও রিমোট কন্ট্রোলযুক্ত ওই বোমাটি পাওয়া যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপ বোমা এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় হেমায়েতপুর থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অন্য বাড়ি থেকে আরও নয়টি বোমা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি দোকান থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ, যা পরবর্তীতে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
জনবহুল এলাকা, বসতবাড়ি ও মাদ্রাসার কাছাকাছি একের পর এক শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত চক্রকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেএমবির লিফলেটগুলোর বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Comments