রাকসু ও শিবির নেতাদের আইনের আওতায় আনাসহ ৫ দফা দাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের ঘটনাকে 'মব ভায়োলেন্স' উল্লেখ করে জড়িত রাকসু ও ছাত্রশিবির নেতাদের আইনের আওতায় আনাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা 'গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট'।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসব দাবি জানান জোটের নেতারা।
ছাত্র জোটের ৫ দফা দাবি:
আইনের আওতায় আনা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও ছাত্রশিবিরের অভিযুক্ত নেতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
রাকসু ভবনে হামলা ও মশালমিছিলে হামলা: রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগের তদন্ত এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিলে হামলার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিচার জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
জুলাই–পরবর্তী ঘটনাগুলোর বিচার: জুলাই ৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা এবং ৭টি হলে পবিত্র কোরআন পোড়ানোসহ জুলাই–পরবর্তী সব অমীমাংসিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রক্টরিয়াল বডির জবাবদিহি: প্রক্টর অফিসের উপস্থিতিতে আইনবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং মব ভায়োলেন্সের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ক্যাম্পাসে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই রাকসু ও ছাত্রশিবিরের প্রথম সারির নেতারা লাইব্রেরিতে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীর ওপর দফায় দফায় নৃশংস মব ভায়োলেন্স চালান। অপরাধ তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শুধু প্রক্টরিয়াল বডির থাকলেও, ছাত্র প্রতিনিধিরা সেই এখতিয়ার নিজেদের হাতে তুলে নেন এবং প্রক্টররা তা প্রশ্রয় দেন।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৭ মে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিলে ছাত্রশিবিরের হামলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রক্টরিয়াল বডির কাছে দেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে কোনো বিচার করা হয়নি।এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সন্ত্রাসীদের বর্তমান আগ্রাসী রূপের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেন তারা।
Comments