আগস্টেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নাম
আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনের অপেক্ষায় না থেকে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম সামনে এলেও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে এবং সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এর আগে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সর্বাধিক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, সংকটকালে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় গণ্ডির বাইরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুল সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিও তাকে এই পদের জন্য উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও সরকারে বড় পরিবর্তন আসবে। সেক্ষেত্রে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে এবং বিএনপির নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী তার ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হবে, আর একক প্রার্থী হলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
Comments