সফল আন্দোলনের পর রাজনীতিতে কি আসছে ককরোচ জনতা পার্টি?
ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়ে টানা ৩৭ দিন আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। তবে এই বড় সাফল্যের পরও এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।
সিজেপির নেতারা এখনই রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবছেন না। তাদের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য হলো এই তরুণদের আন্দোলনকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া। তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছেন না সংগঠনের নেতারা। এ প্রসঙ্গে মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ভারতে কোনো বিষয়েই কখনো 'না' বলা উচিত নয়।"
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দিনই বিজেপির সভাপতি জে. পি. নাড্ডা ও মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে বৈঠক হয়, যেখানে বাকি দাবিগুলো নিয়ে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছায় উভয় পক্ষ। সমঝোতা অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা হবে না। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি লিখিত চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, দেশে ইতোমধ্যে সাড়ে সাত থেকে আটশ' রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু সেগুলো তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তারা যুব সমাজের দাবি মানতে বাধ্য হয়।
নেতারা জানান, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতাসহ মূল সংগঠকেরা কেউ পেশাদার রাজনীতিবিদ নন, বরং সাধারণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী। আন্দোলন সফল হওয়ার পর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিজেপি আশা প্রকাশ করেছে যে, সরকার এখন থেকে তাদের আর 'দেশবিরোধী' বা 'ভাইরাস' হিসেবে আখ্যায়িত করবে না।
সূত্র: এনডিটিভি
Comments