ফাইনালের আগে ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা
নাটকীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আর সেমি-ফাইনালের তাদের জয়ের উদ্যাপনে মাঠে ফুটে উঠেছে পুরোনো এক রাজনৈতিক বিতর্কও।
বুধবার রাতের ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার হাতে তুলে নেন একটি ব্যানার। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, 'Las Malvinas son Argentinas', যার অর্থ- 'ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনায় এর নাম মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।'
উদ্যাপন শেষে ব্যানারটি মাঠেই রেখে যান তারা। মাঠের মধ্যে এই ব্যানার নিয়ে উদযাপন করায় এখন শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। কারণ ফিফার নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্লোগান বা ব্যানার মাঠে ব্যবহার করা যাবে না।
রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফার শাস্তির মুখেও পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সরঞ্জাম বা মাঠে প্রদর্শিত কোনো বার্তায় রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান কিংবা প্রতীক থাকা যাবে না।
এই ধরনের নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার আয়োজক, জাতীয় ফুটবল সংস্থা বা ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনার জন্য শাস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই স্লোগানসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।Soccer
এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘটনার বিষয়ে ফিফার মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে ইএসপিএন। তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ম্যাচের আগে অবশ্য আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি চেয়েছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যেন ফকল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে আলোচনায় না আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ের উচ্ছ্বাসে সেই রাজনৈতিক বার্তাই সামনে নিয়ে আসেন তার দলের খেলোয়াড়েরা।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু দিনের। ১৯৮২ সালে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয় দুই দেশের মধ্যে। সেই সংঘাতে প্রাণ হারান ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য। নিহত হন দ্বীপপুঞ্জের তিন বাসিন্দাও।
আর্জেন্টিনা এখনও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ৮ হাজার মাইল এবং আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
Comments