দূরদেশ থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন: বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার বার্তা স্কালোনির
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। দূর দূরান্তের এই দেশটির সাধারণ মানুষের মাঝে আর্জেন্টিনার প্রতি যে অবিচল ও অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে, তা দেখে তিনি মুগ্ধ। স্কালোনি জানান, বাংলাদেশের সমর্থকদের এই উন্মাদনা সবসময়ই তাদের জন্য এক বড় চমক। একই সঙ্গে সেমিফাইনাল জিতে বাংলাদেশি ভক্তদের মুখে চওড়া হাসি ফোটানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, 'বাংলাদেশকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। সত্যি বলতে, এটি অবিশ্বাস্য! বাংলাদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের অবাক করে দেয়। ভৌগোলিক দূরত্ব ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতি তাদের এই ভালোবাসা সত্যিই অনন্য। নিজ দেশের বাইরে হাজার মাইল দূরে অন্য কোনো দেশের মানুষকে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে উল্লাস করতে দেখাটা দারুণ এক অনুভূতি। বাংলাদেশকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি, আজকের ম্যাচে জয় দিয়ে আমরা বাংলাদেশের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। এই লক্ষ্য নিয়েই তো আমরা মাঠে নামছি।'
বাংলাদেশ ছাড়াও নিজের দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন আলবিসেলেস্তেদের এই মাস্টারমাইন্ড। বিভিন্ন সমালোচনা চললেও পরিসংখ্যানের বিচারে আর্জেন্টিনা যে বেশ সফল, সেদিকে ইঙ্গিত করেন তিনি। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দলের জায়গা নিশ্চিত করায় খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'এই পর্যায় পর্যন্ত আসতে পেরেছি মানে নিশ্চয়ই আমরা মাঠে ভালো কিছু করেছি। আমি আমার ছেলেদের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই আমরা আবার বিশ্বের সেরা চার দলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছি। দল হিসেবে আমরা দারুণ কাজ করেছি। কখনো কখনো তা হয়তো যথেষ্ট মনে হয় না, তবে এ পর্যন্ত যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত।'
নকআউট পর্বের কঠিন পথচলা নিয়ে স্কালোনি মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে লড়াই ও কষ্ট ছাড়া সাফল্য পাওয়া অসম্ভব। তিনি বলেন, 'সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছাতে হলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হবে, যদি না আপনি প্রতিপক্ষের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকেন। বিগত বিশ্বকাপেও আমরা অনেক ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিলাম। বিশ্বকাপে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই আসল পরীক্ষা।'
শেষ চারের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। প্রতিপক্ষের প্রধান দুই অস্ত্র হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, 'এই ম্যাচটি আগের ম্যাচগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। বিগত ম্যাচগুলোতে আমাদের যে সব জায়গায় দুর্বলতা ছিল, তা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। কেইন এবং বেলিংহ্যাম এমন দুজন ফুটবলার, যাদের যেকোনো কোচই নিজের দলে পেতে চাইবেন। তবে তাদের রুখে দেওয়ার জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।'
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ মানেই ফুটবল ইতিহাসে ফকল্যান্ড যুদ্ধের রেশ চলে আসা। তবে সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিতর্ককে একপাশে সরিয়ে রেখেছেন স্কালোনি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বেদনাবিধুর সেই ইতিহাসের সাথে ফুটবলকে মেলানো অনুচিত। স্কালোনির ভাষায়, 'এটি স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ। চার দশক আগে যা ঘটে গেছে, তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা অবশ্যই ইতিহাসকে সম্মান করি, তবে ফুটবলকে যুদ্ধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। সে সময় যারা কষ্ট পেয়েছিলেন, তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি—এটি বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল ম্যাচ, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।'
Comments