আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম প্রস্তুত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে। তার আগে দুই দলের ফুটবলারদের মাঠের লড়াইয়ের সমান্তরালে ফুটবল রোমান্টিকদের আড্ডায় অবধারিতভাবেই উঠেছে পুরোনো সব হিসেব-নিকেশ।
মাঠের দ্বৈরথে আলবিসেলেস্তেরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফেবারিট তকমা পেলেও, কাগজের কলমে কিন্তু ইতিহাস কথা বলছে থ্রি লায়ন্সদের পক্ষেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ পথচলায় যখনই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়েছে, বেশিরভাগ সময়ই শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড।
পরিসংখ্যানের দর্পণে ইংল্যান্ডের আধিপত্য। এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দলের ফুটবলীয় দ্বৈরথের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। জয়ের পাল্লাটা বেশ ভারী ইংলিশদের দিকেই। ইংল্যান্ডের জয় ৬ ম্যাচে, বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয় ২ ম্যাচে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। ড্র হয় ৫ ম্যাচ (যার মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের টাইব্রেকার জয়টি অন্তর্ভুক্ত)।
শুধু জয়ের সংখ্যাতেই নয়, গোল করার দিক থেকেও আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে বেশি পুড়িয়েছে ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা। ১৪ ম্যাচে যেখানে আর্জেন্টিনার গোল ১৫টি, সেখানে ইংল্যান্ডের গোল সংখ্যা ২১টি। সবশেষ ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচেও থ্রি লায়ন্সরা জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে লিওনেল স্কালোনির দলের চেয়ে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে টমাস টুখেলার শিষ্যরা।
বিশ্বমঞ্চেও থ্রি লায়ন্সদের দাপট। বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের বাড়তি উত্তেজনা। বৈশ্বিক এই মহোৎসবে দল দুটি এ পর্যন্ত ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। আর এখানেও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। ১৯৬২ ও ১৯৬৬- শুরুর দুই বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। যথাক্রমে ফল ৩-১ এবং ১-০ ব্যবধানে।
১৯৮৬ দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অতিমানবীয় 'হ্যান্ড অব গড' আর 'শতাব্দীর সেরা গোলের' ওপর ভর করে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে (৪-৩) শেষ হাসি হাসে আলবিসেলেস্তেরা।
২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ দেখায় ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড।
ইতিহাসের পাতা হয়তো ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছে, তবে ফুটবল খেলাটা অতীত দিয়ে নয়, নির্ধারিত হয় বর্তমানের ৯০ মিনিটের মাঠের পারফরম্যান্সে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে বর্তমান আর্জেন্টিনা দল যেকোনো ইতিহাস বা পরিসংখ্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ম্যাচ বের করে নিতে সিদ্ধহস্ত।
দীর্ঘ দুই দশক পর বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রশ্ন একটাই—ইংল্যান্ড কি পারবে তাদের ঐতিহাসিক আধিপত্য ধরে রেখে ফাইনালে পা রাখতে, নাকি অতীত পরিসংখ্যানের জাল ছিঁড়ে নতুন ইতিহাস লিখবেন মেসি-আলভারেজরা? উত্তর দেবে আটলান্টার সবুজ গালিচা।
Comments