ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা: গ্যালারির দর্শকদের সামলাতে সতর্ক পুলিশ
আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত একটায় শুরু হবে এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচ।
রাজনৈতিকভাবে বৈরী এ দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিচ্ছে আটলান্টা পুলিশ।
আটলান্টা স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৭৫ হাজার। গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের আলাদা রাখার সুযোগও সীমিত। এ কারণে নিরাপত্তার প্রস্তুতিটা ভালোভাবে নিচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস' জানিয়েছে, চলতি বিশ্বকাপে ইংলিশ সমর্থকদের আচরণ এখন পর্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। যদিও গত শনিবার রাতে মায়ামিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে একজন বৈধ টিকিট ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশিং ইউনিটের দল এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
উভয় দেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকই সমান ৫০-৫০ অনুপাতে থাকবেন বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে দেওয়া অফিশিয়াল টিকিটগুলোর বসার জায়গা আলাদা থাকলেও ফিফার নীতি অনুযায়ী সাধারণ কোটায় টিকিট কাটা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকেরা গ্যালারিতে একসঙ্গে বসার সুযোগ পাবেন।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগের ম্যাচগুলোর মতোই এই ম্যাচও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শেষ হবে। তবে আটলান্টা পুলিশ ভালো করেই জানে, ফকল্যান্ড যুদ্ধ কিংবা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল নিয়ে গ্যালারির স্লেজিং ও উসকানিমূলক স্লোগান যেকোনো মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়াতে পারে।
এরই মধ্যে একাধিক ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে গান গাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। সঙ্গে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যার কিছু ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়েও পড়ে।
এবার বিশ্বকাপে আটলান্টার স্টেডিয়ামটি কিছুটা ব্যতিক্রম। এটি শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। ফলে খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামের কাছেই পানশালাগুলোয় সাধারণত দুই দলের সমর্থকেরা ভিড় জমান।
শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকদেরই জয়জয়কার ছিল। তবে সেমিফাইনালের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে ফ্লোরিডায় বিশালসংখ্যক আর্জেন্টাইন প্রবাসী রয়েছেন, যাঁদের বড় একটা অংশ ম্যাচটি দেখতে আটলান্টায় যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বসে নেই ইংলিশ সমর্থকেরাও। যুক্তরাজ্য থেকে নতুন করে যাওয়া ফুটবলপ্রেমী ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে জর্জিয়ায় জড়ো হওয়া প্রবাসীদের কারণে ইংল্যান্ডের সমর্থকও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
Comments