মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ইরান থেকে ফিরলেন ১৮৬ জন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে যুদ্ধকবলিত ইরান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।
সংসদে মন্ত্রী জানান, নিহত ১২ জন প্রবাসীর মধ্যে ৫ জন লেবাননে, ৩ জন সৌদি আরবে, ২ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতে, ১ জন ইরাকে এবং ১ জন বাহরাইনে মারা গেছেন।
নিহতদের মরদেহ ও সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, নিহতদের মধ্যে ১ জনের মরদেহ সংশ্লিষ্ট দেশেই দাফন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকিদের প্রক্রিয়া চলমান। দেশে আনা মরদেহের পরিবারকে বিমানবন্দর থেকেই দাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধে নিহত হওয়ায় বিশেষ অনুদান হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হলে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় সরকার সর্বদা তৎপর থাকে। এরই অংশ হিসেবে ইরান থেকে ১৮৬ জনকে সরকারি অর্থায়নে সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের সেবার মান বাড়াতে বিমানবন্দরে নেওয়া নতুন উদ্যোগগুলো সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী:
অ্যাম্বুলেন্স সেবা: অসুস্থ ও মৃত কর্মী পরিবহনের জন্য ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরে ২টি হিমায়িত অ্যাম্বুলেন্স এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১টি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিমানবন্দরে আরও ২টি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।
সহায়ক সরঞ্জাম: প্রবাসীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ২০০টি নতুন ট্রলি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি অসুস্থ কর্মীদের জন্য ১০টি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়েছে।
সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়ন: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য আধুনিক বিশ্রামাগার স্থাপন, ৩০ শতাংশ ছাড়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Comments