জন্মশহর মাশহাদে আজ খামেনির দাফন: লাখো মানুষের ঢল
ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালাজুড়ে লাখো মানুষের উপচে পড়া ঢল। সবাই এসেছিলেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে। ইরান ও ইরাকের মোট পাঁচটি শহরে সপ্তাহব্যাপী বিশাল শোকানুষ্ঠান শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) খামেনির জন্মশহর মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে। শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান 'ইমাম রেজা'-র সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ খামেনি নিহত হন। যুদ্ধের তীব্রতার কারণে তখন দাফন স্থগিত রাখা হলেও, সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ইরান সরকার তাঁর শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত শুক্রবার থেকে খামেনির দাফন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুক্র থেকে রোববার: খামেনির কফিন তেহরানের প্রধান মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়। সোমবার ও পরবর্তী দিনগুলো: মরদেহ প্রথমে ইরানের কোম শহরে এবং পরে বিশেষ বিমানে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে নেওয়া হয়।
খামেনির মরদেহবাহী কফিন ঘিরে গতকাল বুধবার ইরাকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তীব্র গরম উপেক্ষা করে নাজাফের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। কফিনটি ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর সমাধিতে নেওয়া হলে সেখানে শত শত ধর্মীয় নেতা জানাজায় অংশ নেন। এরপর মরদেহ শিয়াদের আরেক পবিত্র শহর কারবালায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নাজাফে শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মোহাম্মদ আল-বায়াতি বলেন, "যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর শেষকৃত্যে আমি না এসে থাকতে পারতাম না।" অন্যদিকে, খামেনির আঞ্চলিক নীতির সমর্থক না হয়েও কেবল পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাঁর অনড় অবস্থানের কারণে অনেক ইরাকি নাগরিক এই শোকযাত্রায় শামিল হন।
খামেনির দাফন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তিপ্রক্রিয়া নতুন করে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত মাসে দুই দেশ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, "যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা মানে সময়ের অপচয়।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজে রহস্যময় হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন বাহিনী এর দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে তাদের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালালে অঞ্চলটিতে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্ম ১৯৩৯ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে। শৈশব ও কৈশোরের বড় সময় এই শহরেই কেটেছে তাঁর। মাশহাদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক পাঠ শেষে উচ্চতর শিক্ষার জন্য কোমে যান। ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসনভার ও ধর্মীয় নেতৃত্ব পরিচালনা করেন।
Comments