‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এফসিএস
ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার ছয়জনের সঙ্গে দেশি বা আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ এখন পর্যন্ত না পাওয়া গেলেও সম্ভাবনা নাকচ করছে না পুলিশ।
দলটির মূল নেতা শাহ আমানত সাবির 'উগ্রবাদে জাড়িয়েছেন' বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বোমা বানিয়ে বিস্ফোরণের চর্চা করছিলেন বড় কোন ঘটনা ঘটাতে, এমনটাই বলছে পুলিশ।
সংগঠন চালাতে তারা যশোরের ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে ছিনতাই করার কথাও বলেছেন পুলিশকে। আর তাদের প্রশিক্ষক হিসেবে 'ম্যাক ইউরি' ছদ্মনামের একজনের কথা বলেছেন। এখন সেই 'ম্যাক ইউরি'র বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।
গত রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর 'মিনি কক্সবাজার' এলাকা থেকে উগ্রবাদী সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। এরা সবাই খুলনা ভিত্তিক 'ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম' (এফসিএস) নামে একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র ও শিক্ষক।
মঙ্গলবার ফেসবুকে এক মিনিট চার সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে সাবির ও আরও কয়েকজনকে নির্জন একটি রাস্তায় বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পর তারা আল্লাহর নামে তাকবীর দেন। এসময় ব্যাকগাউন্ডে একটি নাশিদ (গান বা ইসলামী গান) বাজছিল, যেটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামি স্টেট বা আইএস এর গান বলে তারাই পুলিশকে জানিয়েছে।
ভিডিওতে বিস্ফোরণ শেষে তারা 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীর দেন। এসময় একটি দা দিয়ে কোপানোর ভঙ্গি করে সাবির বলতে থাকেন, "হে কুফররা তোমরা তৈরি থাকো। দ্রুতই আমরা তোমাদের ওপর বজ্রের মতো আঘাতের জন্য প্রস্তুতি…। ইউনূস তুই তৈরি থাক।"
জানা যায় তারা এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরপর খুলনার ডুমুরিয়ার একটা জনবিরল সড়কে। পুলিশ বলছে, গাজওয়াতুল হিন্দ এর প্রস্তুতি হিসেবে' বোমার চর্চা করছিলেন সাবির।
পুলিশ এখন পর্যন্ত যা বলেছে –
'ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম' বা এফসিএস মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে তরুণ ও কিশোরদের উগ্রবাদী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার একটি বিতর্কিত সংগঠন। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং আল-কায়েদার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশে একটি সশস্ত্র শাখা বা সমমনা উগ্রবাদী গোষ্ঠী তৈরির চেষ্টা করছিল তারা।
কার্যক্রম ও আদর্শিক লক্ষ্য:
- 'গাজওয়াতুল হিন্দ': এই সংগঠনের সদস্যরা 'গাজওয়াতুল হিন্দ'বা ইসলামের শেষ যুগের যুদ্ধ-এর প্রস্তুতি হিসেবে বোমা তৈরি ও ব্যবহারের চর্চা করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
- ভৌগোলিক বিস্তার: রাজধানী ঢাকার বসিলা এলাকা থেকে শুরু করে কিশোরগঞ্জের চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় তাদের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ বিস্তার লাভ করেছিল।
- প্রশিক্ষণের ধরণ: সাধারণ শারীরিক কসরত এবং মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত করা ।
Comments