টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা: নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর উদ্যোগ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে চরম ঝুঁকিতে বসবাসকারী নাগরিকদের জানমাল রক্ষার্থে সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে এবং তাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের বিশেষ টিম এই সতর্কতামূলক কার্যক্রম ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি পাহাড়ি এলাকায় বিশেষভাবে মাইকিং করা হচ্ছে। এলাকাগুলো হলো: আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর, শান্তিনগর, বেলতলীঘোনা ও টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা ও সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি ও ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূল সংলগ্ন এলাকা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ উপকূলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, "আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করার পর থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে কাজ করছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাহাড়সংলগ্ন স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ সেখানে অবিলম্বে আশ্রয় নিতে পারেন।
Comments