জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন: পরিধি বাড়িয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় ঔষধ নীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের বিকাশ, অপরিহার্য ঔষধের তালিকা প্রণয়ন এবং ঔষধ আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিমালায় পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিষদের কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
'ঔষধ ও প্রসাধনী আইন, ২০২৩'-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী পরিষদটি পুনর্গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি গ্যাজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। নতুন এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কমিটির নেতৃত্বে ও দায়িত্বে আছেন:
চেয়ারম্যান: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।
সদস্য সচিব: স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য:
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
অর্থ সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধি।
এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বাপি) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিগণ।
অপরিহার্য ঔষধের তালিকা প্রণয়ন: অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক্যাল, ভেষজ এবং ভেটেরিনারি (পশুচিকিৎসা) ঔষধসহ সব ধরনের অপরিহার্য ঔষধের জাতীয় তালিকা তৈরি ও সংশোধনের সুপারিশ করবে এই পরিষদ। এই তালিকাটি প্রতি দুই বছর পর পর হালনাগাদ (আপডেট) করা হবে।
জাতীয় ঔষধ নীতি বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং দেশের মানুষের জন্য ঔষধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় ঔষধ শিল্পকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা।
ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ করার পাশাপাশি ঔষধ খাতের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন।
যেকোনো জরুরি ঔষধ সংক্রান্ত বিষয়েও সরকারকে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিতে পারবে এই পরিষদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই উপদেষ্টা পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে যেকোনো সময় অতিরিক্ত সভাও আহ্বান করা যাবে। এছাড়া কাজের সুবিধার্থে পরিষদ প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো নতুন সদস্যকে কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করার ক্ষমতা রাখে।
Comments