আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা: নজর মূল্যস্ফীতি ও ঋণ প্রবৃদ্ধিতে
নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং আগামী ছয় মাস বাজারে অর্থের সরবরাহ কেমন থাকবে, তার একটি সামষ্টিক রূপরেখা থাকবে এই নীতিমালায়। বিশেষ করে দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়গুলোকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর বাজারে অর্থ প্রবাহ ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এই মুদ্রানীতি বা 'মানিটারি পলিসি' ঘোষণা করে থাকে। আজ ঘোষিত নীতিমালাটি আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য কার্যকর হবে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী অর্থবছরের দ্বিতীয় বা শেষ প্রান্তিকের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে নীতিসুদ হার (পলিসি রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
দেশীয় বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের শেষভাগ থেকেই ধারাবাহিকভাবে নীতিসুদ হার বাড়িয়ে আসছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে এবং স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের নতুন বাজেটেও বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্দেশ্যে বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
আজকের নতুন মুদ্রানীতিতে একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতিকে লাগাম টেনে ধরার চ্যালেঞ্জ থাকবে, অন্যদিকে সরকারের নতুন ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি সচল রাখার জন্য অর্থ সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বড় পরীক্ষা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হবে।
Comments