মুদি দোকান ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত হবে না: রিজভী
দেশের সাধারণ, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ছোট ছোট মুদি দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সীমিত আয়ের এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ভ্যাটমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা কর দেওয়ার প্রকৃত সক্ষমতা রাখেন অথচ করের বাইরে আছেন, তাদেরই করের আওতায় আনা উচিত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন কখনোই জনগণের বড় ক্ষতি হয় এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পরও বিএনপিকে ধ্বংস করা যায়নি, বরং দলটির জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।" দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতি এমন হতে হবে যা সাধারণ মানুষের ভরণপোষণ নিশ্চিত করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাই অনুসরণ করছেন। অতীতে দেশের একমুখী পররাষ্ট্রনীতি থাকলেও এখন দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে স্বাধীন ও বহুমুখী কূটনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বিশ্বনেতারা।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর কর-সুবিধা দেওয়া সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কলকাতায় একটি সড়কের নাম পরিবর্তন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী। তিনি বলেন, কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে একটি সড়ক ছিল, যার নাম সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নেতার নাম মুছে ফেলা অত্যন্ত রুচিবিরোধী কাজ।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি রাজনৈতিক গুরু হওয়া সত্ত্বেও এই নাম পরিবর্তনের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা ও তাদের বুদ্ধিজীবীরা সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। অথচ বাংলাদেশ এখনো ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের নাম বহাল রেখে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।
Comments