পুশইন চেষ্টা: ৬ দিন ধরে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৫ যুবকের মানবেতর জীবন
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য রেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) গত ৬ দিন ধরে আটকে আছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ বাংলাদেশি যুবক। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন। তীব্র রোদ, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে দিন-রাত কাটছে তাঁদের। নেই কোনো প্রয়োজনীয় খাবার, গোসল কিংবা ন্যূনতম স্যানিটেশনের ব্যবস্থা।
সীমান্তের এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় বিএসএফ দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত রোববার সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ মোট ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ যুবককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে তাদের অবস্থান হয় দু'দেশের সীমান্তের শূন্য রেখার ভারতীয় অংশে।
তবে ঘটনার মোড় ঘোরে গত বুধবার সকালে। সেদিন থেকে গয়টাপাড়া সীমান্তে আটকে থাকা দুই শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের আর কোনো খোঁজ মিলছে না। স্থানীয়দের ধারণা, বিএসএফ রাতের আঁধারে ওই চারজনকে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে অন্য কোথাও আটকে রেখেছে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে এই নিখোঁজের তথ্যের সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, খোলা আকাশের নিচে আটকে থাকা এই যুবকদের অবস্থা দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। মৌলিক চাহিদা ও চিকিৎসার অভাবে যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে দু'দেশের উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও সীমান্ত কমান্ডের আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তের শূন্য রেখায় মানবেতর জীবনযাপন করা এই ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Comments