অভিনেতা যাহের আলভী কারাগারে, সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন ইকরার বাবা
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন নিহত ইকরার বাবা ও মামলার বাদী কবির হায়াত খান।
আদালত চত্বরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বলেন, "আজকে বিজ্ঞ আদালতের এই নির্দেশে আমি সন্তুষ্ট। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং একটি সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি। যাহের আলভীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, আমি সেই দাবি জানাচ্ছি।"
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় যাহের আলভী শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে নেপালে অবস্থান করছিলেন।
ইকরার মৃত্যুর পর ওই দিন রাতেই তাঁর বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, মানসিক ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পেছনে যাহের আলভীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনা ছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শোবিজ অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি হয়।
Comments