স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন না প্রবাসীরা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি তৈরি করা নির্বাচনের খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সাথে, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনগুলো কোনো দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রবাসী ভোটারদের কেন এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিদেশ থেকে প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো, তা পূরণ শেষে পুনরায় সংগ্রহ ও যাচাই করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই ভোটগুলো গণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত জটিল এবং ব্যাপক ব্যয়বহুল একটি বিষয় হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধি গত ১০ জুন ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এর ওপর জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে। বর্তমান 'রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২' অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আইনি সুযোগ থাকলেও বিদ্যমান স্থানীয় সরকার আইনে এমন কোনো বিধান নেই।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক প্রবাসী ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকারের সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের বাইরে রাখা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখলেও মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান আল মাসউদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য নতুন কোনো বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।"
ইসির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন,
জাতীয় নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসকল কারিগরি সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সমাধান বের করা উচিত ছিল। চ্যালেঞ্জের অজুহাতে প্রবাসীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন বিধিমালা বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিংবা সরকার আইন সংশোধন করে এই ব্যবস্থা চালু করতে পারত। এটি মূলত একটি সদিচ্ছা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
Comments