তিন বছরের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (এমটিবিএফ) অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে রিজার্ভের পরিমাণ হবে ৬২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এ পরিমাণ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ দশমিক ৪ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছয় মাসের আমদানি সক্ষমতার মানদণ্ডের কাছাকাছি।
অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক নীতি অনুসরণের ফলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চাপের কারণে তা কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৬ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে। আগামী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এ পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রিজার্ভ হবে ৪১ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে তা ৬২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শুধু সাম্প্রতিক সংকট কাটিয়ে উঠবে না, বরং ২০২০-২১ অর্থবছরের সর্বোচ্চ অবস্থানকেও অতিক্রম করবে।
Comments