ব্যাংক কর্মকর্তাদের ‘প্রগতি স্কিমে’ আনতে চায় সরকার
বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশনের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সব তপশিলি ব্যাংকের কর্মীদের 'প্রগতি স্কিমে' অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে জানান, দেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মী কাজ করলেও তাদের সিংহভাগের জন্য অবসর-পরবর্তী কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক নিরাপত্তা নেই। সরকারি চাকুরিজীবীরা পেনশন পেলেও বেসরকারি খাতের কর্মীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই কাঠামোর আওতায় আনতেই 'প্রগতি স্কিম' চালু করা হয়েছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও মালিক যৌথভাবে এই স্কিমের চাঁদা দেবেন। মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ দেবেন কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ বহন করবে প্রতিষ্ঠান। মাসিক চাঁদার পরিমাণ সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬০ বছর পূর্তির পর আজীবন করমুক্ত মাসিক পেনশন সুবিধা মিলবে। এছাড়া চাঁদার ওপর কর রেয়াত এবং মোট জমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে তোলার সুযোগও থাকছে।
স্কিমটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে শেয়ারভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, মনোনীত ব্যক্তির (নমিনি) জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের এই স্কিমে যুক্ত করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কর্মসূচির সামগ্রিক অগ্রগতির একটি খতিয়ান তুলে ধরা হয়। গত ৩০ মে পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জমা পড়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং তহবিলের বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৬ কোটি টাকায়। পেনশন কার্যক্রম সহজ করতে ইতোমধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার মধ্যে ২৪টি ব্যাংক বর্তমানে সক্রিয়ভাবে চাঁদা গ্রহণ করছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটিতে অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক ব্যাংকগুলোর এমডিদের প্রতি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ও প্রচার বাড়াতে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় পৃথক 'পেনশন ডেস্ক' স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি শাখায় সর্বজনীন পেনশনের ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। ব্যাংকের নিজস্ব বিপণন ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমে সর্বজনীন পেনশনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিপুল কর্মীবাহিনীকে এই স্কিমের আওতায় আনা সম্ভব হলে তা দেশের সামগ্রিক সর্বজনীন পেনশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি বড় মাইলফলক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments