রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে আলোচনায় ১২ মিনিটের সেই চলচ্চিত্র
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার নৃশংসতার প্রেক্ষাপটে সমাজমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'দ্য ডিসাপিয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম' (The Disappearance of Willie Bingham)। ম্যাথিউ রিচার্ডস পরিচালিত ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক শর্টফিল্মটি অপরাধীর শাস্তি, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিশোধস্পৃহা এবং মানবিকতার এক জটিল সমীকরণ তুলে ধরে।
শর্টফিল্মটিতে দেখা যায়, উইলি বিংহাম নামের এক ভয়ংকর অপরাধী এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে সেই দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ থাকায়, আদালত তাকে এক অভিনব ও নৃশংস শাস্তির মুখোমুখি করে, যার নাম 'প্রগ্রেসিভ অ্যামপুটেশন' (ধাপে ধাপে অঙ্গচ্ছেদ)।
এই প্রক্রিয়ার নিয়মগুলো ছিল শিউরে ওঠার মতো। অপরাধীর শরীর থেকে একে একে হাত, পা, নাক, কানসহ বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলা হয়। একটি সার্জারির ক্ষত শুকিয়ে অপরাধী সুস্থ হলে, তাকে আবারও অপারেশন টেবিলে তোলা হয়। স্বচ্ছ কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করে। যতক্ষণ না অপরাধীর এই চরম দুর্দশা দেখে ভুক্তভোগী পরিবারের মনে মায়া বা ক্ষমার উদ্রেক হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অঙ্গচ্ছেদ চলতেই থাকে। অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি প্রদর্শনের জন্য হুইলচেয়ারে বসা বিকলাঙ্গ উইলিকে বখাটে কিশোরদের সামনে হাজির করা হয় এবং তাকে দিয়ে বক্তৃতা দেওয়ানো হয়।
শাস্তি শুরুর পাঁচ মাস পর, পঞ্চম অস্ত্রোপচারে ভুক্তভোগীর বাবার অনুমতি নিয়ে উইলির যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এরপর একে একে কাটা পড়ে দুই কান, নাক ও জিহ্বার অগ্রভাগ। লেজার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় শরীরের চামড়া। ব্যথায় ও যন্ত্রণায় কাতর উইলি তখন শুধু একটুখানি মৃত্যুর আকুতি জানাচ্ছিলেন।
চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত মুহূর্তে, যখন অপারেশন টেবিলে উইলি কেবল একটি 'জীবন্ত মাংসপিণ্ড' হিসেবে অবশিষ্ট থাকে, তখন তার হার্ট বা ব্রেন সার্জারি করে মৃত্যু নিশ্চিত করার আইনি প্রক্রিয়া আসে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা সেই ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি চান, উইলি এই নরকযন্ত্রণা নিয়েই বেঁচে থাকুক।
এই সমাপ্তিটি মূলত ন্যায়বিচার, মানুষের ভেতরের চরম প্রতিশোধপরায়ণতা এবং নৈতিকতার সীমানা নিয়ে দর্শকদের মনে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।
চলচ্চিত্রটিতে অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছেন অভিনয়শিল্পীরা। উইলি বিংহাম (অপরাধী) চরিত্রে কেভিন ডি, ভুক্তভোগীর বাবা টিম ফেরিস, জর্জি মর্টন (কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি) চরিত্রে গ্রেগরি জে. ফ্রায়ার (তার ধারাভাষ্যের মধ্য দিয়েই গল্পটি এগিয়ে যায়)।
রামিসা হত্যাকাণ্ড এবং শর্টফিল্মটির প্রাসঙ্গিকতা
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। অপরাধীর দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে উত্তাল জনগন। দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় এই ধরনের নৃশংসতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'উইলি বিংহাম'-এর এই প্রতীকী শাস্তির প্রসঙ্গটি টেনে আনছেন। অপরাধের ভয়াবহতা কতখানি হলে মানুষের মনে এমন শাস্তির কথা আসতে পারে—এই শর্টফিল্মটি যেন তারই এক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিফলন।
Comments