চট্টগ্রামে ‘সুইমিংপুল’ বানিয়ে জেট ফুয়েল চুরি, পদ্মা অয়েলের ম্যানেজারসহ ৪ জন বরখাস্ত
সুইমিংপুলের বানিয়ে সেখানে জমা করা হয়েছিল জেট ফুয়েল। পাশে সারি সারি ড্রাম। কিছু ড্রামে ডিজেল, কিছু ড্রামে অকটেন। বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা থাকা একটি ট্যাংকলরি থেকে সেখানে নামানো হচ্ছিল জেট ফুয়েল। শেষ পর্যন্ত গোপন সেই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা ৪১ নম্বর ওর্য়াড চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় আওয়ামী লীগে নেতা আলমগীরের তেলের ফিল্ড গোডাউনে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে পতেঙ্গা থানার ভিআইপি রোডসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা। পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযান ও জব্দের তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কোস্টগার্ডের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম। এ ছাড়া কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান।
কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপো থেকে একটি ট্যাংকলরিতে করে জেট ফুয়েল নেওয়া হয়েছিল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরবরাহের জন্য। তবে সেটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে পৌঁছে যায় চোরাকারবারিদের কাছে। সেখানে ছোট সুইমিংপুলের মতো চৌবাচ্চা তৈরি করে জেট ফুয়েল সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রামে রাখা হয়েছিল ডিজেল ও অকটেন।
অভিযানে ওই গোপন আস্তানা থেকে ৭ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা তেলের আনুমানিক বাজার দাম ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র যাতে অবৈধভাবে তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে এর কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল রাত ১টার দিকে ইপিজেড থানার আকমল আলী জলকপাট (স্লুইসগেট) এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি ঘাট এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। কোস্টগার্ডের ভাষ্য, জব্দ করা ভোজ্যতেলের বাজার দাম প্রায় ৯ লাখ টাকা। তবে দুটি অভিযানেই কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জেট ফুয়েল চুরির চেষ্টার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। একই সঙ্গে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপক সোহেল ইদ্রিস, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা মিল্টন রায়, কর্মী মো. ইদ্রিস এবং ট্যাংকলরির চালক মো. জসিম উদ্দিন।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা অয়েল ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জ্বালানি ও ভোজ্যতেল চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
Comments