হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা
দেশজুড়ে হাম (Measles) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণসহ মোট ৫টি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
১. পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন: দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে পৃথক ওয়ার্ড বা আইসোলেশন কেবিন চালু করতে হবে এবং আক্রান্তদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।
২. পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিতকরণ: নির্ধারিত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে সার্বক্ষণিক সেবার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে।
৩. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড: সরকারি ছুটির দিনসহ সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড (রোগী পরিদর্শন) দিতে হবে।
৪. দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ: হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়ানো রোধে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না।
৫. তথ্য আপলোড: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম রোগীদের যাবতীয় তথ্য প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এমআইএস (MIS) সার্ভারে আপলোড করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও সংক্রামক রোগ হওয়ায় আলাদা ওয়ার্ড চালু এবং আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে হাসপাতালভিত্তিক অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
Comments